
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ ও পরিবহন সংকট নিরসনসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনরত শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের লিখিত আশ্বাসে অনশন কর্মসূচি ভেঙেছেন।
শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে টানা আন্দোলনের ৩৮তম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম নিজ হাতে জুস খাইয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।
এ সময় তিনি দাবিগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ( ৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে একাডেমিক ভবন-১ এর নিচতলায় সাত শিক্ষার্থী অনশনে বসেন। অনশন শুরুর পরপরই উপাচার্য সেখানে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি ভাঙানোর চেষ্টা করেন। তবে শিক্ষার্থীরা রাজি না হওয়ায় তিনি সেদিন রাত শিক্ষার্থীদের পাশেই কাটান, যা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে।
লিখিত প্রতিশ্রুতিতে উপাচার্য উল্লেখ করেন, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের ছয় মাসের মধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন করা হবে। আগামী ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিভিন্ন রুটে বাসের সিট সংকট নির্ধারণ করে প্রয়োজনীয় রুটে বাস বাড়ানো হবে। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয়ের ছাড়পত্রের জন্য রোববার মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেওয়া হবে।
এছাড়া আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জমির পুনঃঅ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন করা হবে বলে উল্লেখ করেন উপাচার্য।
অনশন ভাঙানোর সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। দাবিপূরণে আমরা বদ্ধপরিকর, ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আপনারা আমার ওপর আস্থা রাখুন।
অনশনরত শিক্ষার্থী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে টানা ৩৬ দিন আন্দোলন করেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না দেখে অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। উপাচার্যের লিখিত আশ্বাসে তারা আপাতত কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
শিক্ষার্থী শওকত ওসমান স্বাক্ষর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে তারা আবারও আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।
সংবাদের পাতা ডেস্ক 









