ঢাকা ০৪:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ও মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পিয়ন মহসিনের বিরুদ্ধে। তিনি চাকুরী করেন পিয়ন হিসেবে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি আসামিপক্ষের পক্ষে মনমতো ভুয়া বা পরিবর্তিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগী ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গজারিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জব্বারের ছেলে ফারুক প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেলে তিনি লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬)। ওই ঘটনায় হাসপাতাল থেকে প্রথমে তাকে সামান্য আঘাত উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আইনজীবী রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন। এরপর তারা পুনরায় অফিস সহকারী মহসিনের কাছে গেলে তিনি পূর্বের রিপোর্ট পরিবর্তন করে একই ঘটনার জন্য ২২/০৬/২০২৬ তারিখে মারাত্মক জখম উল্লেখ করে আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন দা-এর কোপে হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬)। কিন্তু তার হাতের গভীর ও গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্টে সেটিকে সামান্য জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অফিস সহকারী মহসিন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পিয়ন মহসিন নিজেই আহত ব্যক্তিদের ফোন করে হাসপাতালে এসে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। এ কাজে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন পিয়ন হয়ে হয়ে তিনি কীভাবে এবং কোন এখতিয়ারে মামলার মতো সংবেদনশীল মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি বা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন মহসিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সার্টিফিকেটের কাগজপত্র আমি প্রসেসিং করি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক সার্টিফিকেট প্রদান করেন। আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে কোনো সার্টিফিকেট দিই না।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

টাকার বিনিময়ে ভুয়া রিপোর্ট দেন লালমোহন হাসপাতালের পিয়ন মহসিন

Update Time : ১১:১১:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

ভোলার লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টাকার বিনিময়ে চিকিৎসা সনদ (মেডিকেল সার্টিফিকেট) ও মেডিকেল রিপোর্ট পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের পিয়ন মহসিনের বিরুদ্ধে। তিনি চাকুরী করেন পিয়ন হিসেবে। কিন্তু রোগী ও তাদের স্বজন এবং সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয় দেন হাসপাতালের অফিস সহকারী হিসেবে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার করে আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে তিনি আসামিপক্ষের পক্ষে মনমতো ভুয়া বা পরিবর্তিত মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন। এতে বিচারপ্রার্থীরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

ভুক্তভোগী রোগী ও মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গজারিয়া এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত জব্বারের ছেলে ফারুক প্রতিপক্ষের হামলায় হাত ভেঙে গেলে তিনি লালমোহন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১১, তারিখ: ০৮/০৬/২০২৬)। ওই ঘটনায় হাসপাতাল থেকে প্রথমে তাকে সামান্য আঘাত উল্লেখ করে মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করলে তাদের আইনজীবী রিপোর্টটিকে ভুয়া বলে দাবি করেন। এরপর তারা পুনরায় অফিস সহকারী মহসিনের কাছে গেলে তিনি পূর্বের রিপোর্ট পরিবর্তন করে একই ঘটনার জন্য ২২/০৬/২০২৬ তারিখে মারাত্মক জখম উল্লেখ করে আরেকটি রিপোর্ট তৈরি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে, লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আক্তারের স্ত্রী ইয়াসমিন দা-এর কোপে হাতের কব্জিতে গুরুতর জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তিনি এ ঘটনায় একটি মামলা করেন (মামলা নং-২৯, তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬)। কিন্তু তার হাতের গভীর ও গুরুতর আঘাত থাকা সত্ত্বেও মেডিকেল রিপোর্টে সেটিকে সামান্য জখম হিসেবে উল্লেখ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে অফিস সহকারী মহসিন ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের বিপক্ষে পক্ষপাতদুষ্ট ও বানোয়াট মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি করে দিচ্ছেন।

তাদের আরও অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনা ও পুলিশের মাধ্যমে মেডিকেল রিপোর্ট সংগ্রহ করার কথা থাকলেও পিয়ন মহসিন নিজেই আহত ব্যক্তিদের ফোন করে হাসপাতালে এসে রিপোর্ট নিয়ে যেতে বলেন। এ কাজে তিনি মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একজন পিয়ন হয়ে হয়ে তিনি কীভাবে এবং কোন এখতিয়ারে মামলার মতো সংবেদনশীল মেডিকেল রিপোর্ট তৈরি বা পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ বিচারপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার না হন।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পিয়ন মহসিনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, হাসপাতালের রোগীদের সার্টিফিকেটের কাগজপত্র আমি প্রসেসিং করি। এরপর কর্তব্যরত চিকিৎসক সার্টিফিকেট প্রদান করেন। আমি টাকার বিনিময়ে কাউকে কোনো সার্টিফিকেট দিই না।

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) মো. আবু মাহমুদ তালহা বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।