ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

লালমোহন হাসপাতালে নিয়োগই ছিলো না, তবুও একাধিক দায়িত্ব পালন করতেন মিজান

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়োগই ছিলো না তার। তবুও তিনিই ছিলেন লালমোহন হাসপাতালের অফিস সহকারী, পরিসংখ্যান ও কমপিউটার অপারেটরের দায়িত্বে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিকে প্রতিবছর টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া সহ হাসপাতালের গোপনীয় সকল কাজ তাকে দিয়েই করানো হতো। লালমোহন গজারিয়ার ৪নং ওয়ার্ডের ¬¬মো. মিজানুর রহমান-এর আউটসোর্সিংয়ে ওয়ার্ড বয় পদে নিয়োগ ছিলো পার্শ্ববর্তী তজুমদ্দিন উপজেলায়। ২০১৯ সাল থেকে তজুমদ্দিনে তার নিয়োগ থাকলেও তিনি লালমোহন হাসপাতালে বসেই বেতন নিতেন ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত। ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার পতনের পর তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার আউট সোর্সিংয়ের চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়। একই সাথে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও বেশ কয়েকজন আউট সোর্সিংয়ের ওয়ার্ডবয়, কর্মী অনুপস্থিত থাকায় তাদেরও চাকরি বাতিল হয়ে যায়। এই সুযোগে মিজানের চাকরি লালমোহনে বহাল করে দেন তারই চাচা, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের রহস্যময় দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রধান সহকারী’ মো. নুরুজ্জামান। নুরুজ্জামানের ক্ষমতা বলেই মিজানুর রহমান অন্য হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ থাকলেও লালমোহন হাসপাতালেই থাকতেন। প্রথম দিকে নুরুজ্জামান কমপিউটারে কাজ করানোর জন্য মিজানুর রহমানকে লালমোহন হাসপাতালে এনে তার কক্ষের মধ্যেই, পাশেই ডেস্ক খুলে বসিয়ে দেয়। এরপর সুযোগ বুঝে তজুমদ্দিন থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওয়ার্ড বয় পদে তার নিয়োগ নিয়ে দেওয়া হয়। নুরুজ্জামান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দুইজনেই যোগসাজশ করে মিজানকে দিয়ে গোপনীয় কাজগুলো করাতেন। নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে প্রতিবছর হাসপাতালের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া সহ অর্থনৈতিক কাজ, পরিসংখ্যান বিভাগের কাজ এগুলো মিজানের মাধ্যমে করানো হতো। এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঢাকা, বরিশালে হাসপাতাল থেকে কাউকে পাঠানোর জন্য বলা হলে সেখানেও মিজানকে পাঠানো হতো। অথচ সরকারি নিয়োগকৃত লালমোহন হাসপাতালের স্থায়ী স্টাফদের সবসময় উপক্ষো করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন ওয়ার্ডবয় পদে নিয়োগকৃত অন্য উপজেলার আউটসোর্সিংয়ের কর্মীকে দিয়ে লালমোহন হাসপাতালের সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান ও প্রধান সহকারী নুরুজ্জামান নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ। যেখানে লালমোহন হাসপাতালে তার নিয়োগই ছিলো না এবং তজুমদ্দিন হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের ওয়ার্ডবয়ের থাকার কথা ওয়ার্ডে, সেখানে তাকে দিয়ে করানো হতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দপ্তরের কাজ। যা প্রশাসনিক নীতিমালা ও আউটসোর্সিংয়ের নিয়মের পরিপন্থি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হাসপাতালে থাকা বেশ কিছু নিয়মিত কর্মচারীও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের কাজ হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে। বিষয়টি নিয়ে মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনিও তার নিয়োগ তজুমদ্দিনের ছিলো বলে স্বীকার করেন। বর্তমানে লালমোহন হাসপাতালে নিয়োগ হয়েছে এবং ওয়ার্ড বয় পদে আউটসোর্সিং কর্মী। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান ও প্রধান সহকারী নুরুজ্জামান ভোলায় বদলীয় হয়ে যান। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ডা. মহসিন জানান, বিষয়টি তখনকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বলতে পারবেন। প্রশাসনিক বিষয় তিনি বলতে পারতেন না। যতটুকু জানেন, অফিস সহকারী ও কমপিউটারে দক্ষ লোক না থাকায় তার চাচা প্রধান সহকারী মো. নুরুজ্জামান তাকে নিয়ে এসেছে।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

লালমোহন হাসপাতালে নিয়োগই ছিলো না, তবুও একাধিক দায়িত্ব পালন করতেন মিজান

Update Time : ০৭:৪৫:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়োগই ছিলো না তার। তবুও তিনিই ছিলেন লালমোহন হাসপাতালের অফিস সহকারী, পরিসংখ্যান ও কমপিউটার অপারেটরের দায়িত্বে। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিকে প্রতিবছর টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া সহ হাসপাতালের গোপনীয় সকল কাজ তাকে দিয়েই করানো হতো। লালমোহন গজারিয়ার ৪নং ওয়ার্ডের ¬¬মো. মিজানুর রহমান-এর আউটসোর্সিংয়ে ওয়ার্ড বয় পদে নিয়োগ ছিলো পার্শ্ববর্তী তজুমদ্দিন উপজেলায়। ২০১৯ সাল থেকে তজুমদ্দিনে তার নিয়োগ থাকলেও তিনি লালমোহন হাসপাতালে বসেই বেতন নিতেন ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত। ৫ আগস্ট পরবর্তী সরকার পতনের পর তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তার আউট সোর্সিংয়ের চাকরি বাতিল করে দেওয়া হয়। একই সাথে লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেও বেশ কয়েকজন আউট সোর্সিংয়ের ওয়ার্ডবয়, কর্মী অনুপস্থিত থাকায় তাদেরও চাকরি বাতিল হয়ে যায়। এই সুযোগে মিজানের চাকরি লালমোহনে বহাল করে দেন তারই চাচা, লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের রহস্যময় দীর্ঘমেয়াদি ‘প্রধান সহকারী’ মো. নুরুজ্জামান। নুরুজ্জামানের ক্ষমতা বলেই মিজানুর রহমান অন্য হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে নিয়োগ থাকলেও লালমোহন হাসপাতালেই থাকতেন। প্রথম দিকে নুরুজ্জামান কমপিউটারে কাজ করানোর জন্য মিজানুর রহমানকে লালমোহন হাসপাতালে এনে তার কক্ষের মধ্যেই, পাশেই ডেস্ক খুলে বসিয়ে দেয়। এরপর সুযোগ বুঝে তজুমদ্দিন থেকে আউটসোর্সিংয়ের ওয়ার্ড বয় পদে তার নিয়োগ নিয়ে দেওয়া হয়। নুরুজ্জামান এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা দুইজনেই যোগসাজশ করে মিজানকে দিয়ে গোপনীয় কাজগুলো করাতেন। নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে প্রতিবছর হাসপাতালের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়া সহ অর্থনৈতিক কাজ, পরিসংখ্যান বিভাগের কাজ এগুলো মিজানের মাধ্যমে করানো হতো। এমনকি সরকারি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, ঢাকা, বরিশালে হাসপাতাল থেকে কাউকে পাঠানোর জন্য বলা হলে সেখানেও মিজানকে পাঠানো হতো। অথচ সরকারি নিয়োগকৃত লালমোহন হাসপাতালের স্থায়ী স্টাফদের সবসময় উপক্ষো করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন ওয়ার্ডবয় পদে নিয়োগকৃত অন্য উপজেলার আউটসোর্সিংয়ের কর্মীকে দিয়ে লালমোহন হাসপাতালের সর্বশেষ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান ও প্রধান সহকারী নুরুজ্জামান নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ। যেখানে লালমোহন হাসপাতালে তার নিয়োগই ছিলো না এবং তজুমদ্দিন হাসপাতালের আউটসোর্সিংয়ের ওয়ার্ডবয়ের থাকার কথা ওয়ার্ডে, সেখানে তাকে দিয়ে করানো হতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক দপ্তরের কাজ। যা প্রশাসনিক নীতিমালা ও আউটসোর্সিংয়ের নিয়মের পরিপন্থি বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি হাসপাতালে থাকা বেশ কিছু নিয়মিত কর্মচারীও বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করতেন। তারা মনে করেন, এই ধরনের কাজ হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নষ্ট করেছে। বিষয়টি নিয়ে মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনিও তার নিয়োগ তজুমদ্দিনের ছিলো বলে স্বীকার করেন। বর্তমানে লালমোহন হাসপাতালে নিয়োগ হয়েছে এবং ওয়ার্ড বয় পদে আউটসোর্সিং কর্মী। তবে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৈয়বুর রহমান ও প্রধান সহকারী নুরুজ্জামান ভোলায় বদলীয় হয়ে যান। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ডা. মহসিন জানান, বিষয়টি তখনকার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা বলতে পারবেন। প্রশাসনিক বিষয় তিনি বলতে পারতেন না। যতটুকু জানেন, অফিস সহকারী ও কমপিউটারে দক্ষ লোক না থাকায় তার চাচা প্রধান সহকারী মো. নুরুজ্জামান তাকে নিয়ে এসেছে।