ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

ছেলেকে জীবিত না হলেও অন্তত লাশটা এনে দেন- নদীতে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে এক মায়ের আকুতি

আমার ছেলেকে এনে আমার কোলে দেন। যেকোনোভাবে আমার ছেলেকে আপনারা এনে দেন। আমরা গরীব মানুষ, বদলা দিয়ে খাই। আপনারা আমার ছেলেকে জীবিত না হলেও অন্তত লাশটা এনে দেন।’ এভাবেই নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে আহাজারি করছিলেন মোসা. মিনারা বেগম নামে এক মা। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচ্ছপিয়া এলাকার মুনাফ ব্যাপারী বাড়ির মো. রেজাউলের স্ত্রী। তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে মো. নুহাদ তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় তেঁতুলিয়া নদীর ব্লান্টির চর এলাকায় রাঙ্গাবালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি জামাল-৮ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মাছ ধরার ট্রলারটি। ওই ট্রলারে থাকা ৩জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে কিশোর নুহাদ। দুর্ঘটনার পর থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ নুহাদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। এতে করে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। বুকের মাঝে কান্না চেপে ছেলেকে অথৈ পানিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বাবা মো. রেজাউল।
তিনি বলেন, আমার ৯ ছেলে-মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে সবার ছোট নুহাদ। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী জাহান উদ্দিনের ট্রলারে করে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে যায় নুহাদসহ মোট চারজন। এ সময় ঢাকাগামী এমভি জামাল-৮ নামে একটি লঞ্চ তাদের মাছ ধরা ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই ট্রলারে থাকা তিনজন জীবিত অবস্থায় তীরে ফিরলেও আমার ছেলে নুহাদ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে আত্মী-স্বজনদের নিয়ে সারারাত এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তবে কোনোভাবেই তার হদিস পাচ্ছি না। আবারও নদীতে যাবো ছেলেকে খুঁজতে। এতো সময় যেহেতু পার হয়ে গেছে তাই হয়ত আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। তাই আমি ছেলের লাশটা হলেও শেষবারের মতো দেখতে চাই। ওই লাশটা নিজের হাতে মাটি দেবো। তবে যে লঞ্চ এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ট্রলার মালিক জাহান উদ্দিন জানান, আমার তিন ছেলেসহ নুহাদ নদীতে মাছ ধরতে যায়। বিকেলের দিকে জাল টেনে তোলার সময় ঢাকাগামী একটি লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছে। এতে আমার অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ট্রলারটি ভেঙে ডুবে গেলে আমার ছেলেরা নদী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নুহাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার পুরো রাত এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত খুঁজেও নুহাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তাই আমি ওই লঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কঠোর বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিখোঁজ কিশোরকে বহুস্থানে খুঁজেছি। তবে কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নদীতে থাকা জেলেদেরকেও বলে দেওয়া হয়েছে তারা ওই কিশোরের কোনো সন্ধান পেলে যেন আমাদের দ্রুত অবহিত করেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। নিখোঁজ ওই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

ছেলেকে জীবিত না হলেও অন্তত লাশটা এনে দেন- নদীতে নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে এক মায়ের আকুতি

Update Time : ০৮:২১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ জুন ২০২৫

আমার ছেলেকে এনে আমার কোলে দেন। যেকোনোভাবে আমার ছেলেকে আপনারা এনে দেন। আমরা গরীব মানুষ, বদলা দিয়ে খাই। আপনারা আমার ছেলেকে জীবিত না হলেও অন্তত লাশটা এনে দেন।’ এভাবেই নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেতে আহাজারি করছিলেন মোসা. মিনারা বেগম নামে এক মা। তিনি ভোলার লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চরকচ্ছপিয়া এলাকার মুনাফ ব্যাপারী বাড়ির মো. রেজাউলের স্ত্রী। তার ১৪ বছর বয়সী ছেলে মো. নুহাদ তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলার ডুবে নিখোঁজ হয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টায় তেঁতুলিয়া নদীর ব্লান্টির চর এলাকায় রাঙ্গাবালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া এমভি জামাল-৮ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যায় মাছ ধরার ট্রলারটি। ওই ট্রলারে থাকা ৩জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছে কিশোর নুহাদ। দুর্ঘটনার পর থেকে শুক্রবার বিকেল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নিখোঁজ নুহাদের কোনো সন্ধান পায়নি পরিবারের লোকজন। এতে করে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে। বুকের মাঝে কান্না চেপে ছেলেকে অথৈ পানিতে খুঁজে বেড়াচ্ছেন বাবা মো. রেজাউল।
তিনি বলেন, আমার ৯ ছেলে-মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে সবার ছোট নুহাদ। বৃহস্পতিবার প্রতিবেশী জাহান উদ্দিনের ট্রলারে করে তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ ধরতে যায় নুহাদসহ মোট চারজন। এ সময় ঢাকাগামী এমভি জামাল-৮ নামে একটি লঞ্চ তাদের মাছ ধরা ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এতে ওই ট্রলারে থাকা তিনজন জীবিত অবস্থায় তীরে ফিরলেও আমার ছেলে নুহাদ এখনো নিখোঁজ রয়েছে। ওই ঘটনার পর থেকে আত্মী-স্বজনদের নিয়ে সারারাত এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। তবে কোনোভাবেই তার হদিস পাচ্ছি না। আবারও নদীতে যাবো ছেলেকে খুঁজতে। এতো সময় যেহেতু পার হয়ে গেছে তাই হয়ত আমার ছেলে আর বেঁচে নেই। তাই আমি ছেলের লাশটা হলেও শেষবারের মতো দেখতে চাই। ওই লাশটা নিজের হাতে মাটি দেবো। তবে যে লঞ্চ এই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে আমি তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে ট্রলার মালিক জাহান উদ্দিন জানান, আমার তিন ছেলেসহ নুহাদ নদীতে মাছ ধরতে যায়। বিকেলের দিকে জাল টেনে তোলার সময় ঢাকাগামী একটি লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দিয়ে চূর্ণবিচূর্ণ করে ফেলেছে। এতে আমার অন্তত দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দুর্ঘটনায় ট্রলারটি ভেঙে ডুবে গেলে আমার ছেলেরা নদী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও নুহাদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার পুরো রাত এবং শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত খুঁজেও নুহাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। তাই আমি ওই লঞ্চের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কঠোর বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আমরা দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিখোঁজ কিশোরকে বহুস্থানে খুঁজেছি। তবে কোনোভাবেই তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া নদীতে থাকা জেলেদেরকেও বলে দেওয়া হয়েছে তারা ওই কিশোরের কোনো সন্ধান পেলে যেন আমাদের দ্রুত অবহিত করেন।
এ ব্যাপারে লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। নিখোঁজ ওই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়ের করলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।