ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো পুলিশ

রাত্রিকালীন অভিযানের নামে পথচারী ও অটো চালককে আটক করে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার লালমোহন থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।
গত ৭জুন পবিত্র ঈদ উল আযহার দিবাগত রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চরলক্ষী গ্রামের ফলপান বাড়ির দরজায় ছালাউদ্দিনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদ উল আযহার দিন (শনিবার) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রাত্রিকালীন অভিযানের অংশ হিসেবে কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামের ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন।
এসময় রাস্তায় মো. হারুন নামের এক অটো চালককে দাঁড় করিয়ে চাবি রেখে দেন এসআই রেহান। তখন ওই স্থানে কিছু লোকজন থাকলেও পুলিশের ভয়ে দৌড় দিলেও তাদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে অটো চালকসহ ওই দুজনকে নিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ছালাউদ্দিনের চায়ের বন্ধ দোকান খুলতে বাধ্য করেন ওই এসআই।
এসময় দোকান বন্ধ করে ভেতরে ঘুম যাচ্ছিলেন ছালাউদ্দিন ও তার বড় ভাই ফারুক। পুলিশ পরিচয়ে দোকানে ঢুকেই ছালাউদ্দিনকে চড়-থাপ্পড় শুরু করলে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় তার ভাই ফারুক।
পরে ছালাউদ্দিনের দোকান তল্লাশির নামে তার ক্যাশ ও দোকানের চাবি নিয়ে যান এবং মালামাল তছনছ করেন এসআই রেহান। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর গাঁজার পুঁটলি রেখে এগুলো দোকানি ও আটককৃতদের কাছে পাওয়া গেছে বলে দাবি করে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি ও ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনকে খবর দেন এবং তারা আসলে আটককৃতদের ছাড়াতে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন এসআই রেহান।
দোকানি ছালাউদ্দিন বলেন, ঈদের দিবাগত রাতে আমার বড় ভাইসহ দোকানে ঘুমিয়ে ছিলাম। এসময় পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার দোকান খুলতে বাধ্য করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান। পরে দোকান খোলার সাথে সাথেই আমার ভাইকেসহ আমাকে মারধর শুরু করেন তিনি। এসময় ভয়ে আমার ভাই পালিয়ে গেলেও আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে দোকানে বসিয়ে রাখে।
পরে পুলিশ নিজেদের কাছ থেকে গাঁজার পুঁটলি দোকানের টেবিলে রেখে আমিসহ পূর্বের আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এবং কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সিকে খবর দেন। পরে তিনি এসে পুলিশের সাথে দেন দরবার করে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে রাখেন।
অটো চালক মো. হারুন বলেন, আমি অটো নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে দাঁড়াতে সিগন্যাল দেয় পুলিশ। আমি দাঁড়ানোর সাথে সাথে আমার অটোর চাবি নিয়ে আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরায় তারা। পরে ছালাউদ্দিনের দোকানে নিয়ে নিজেদের কাছ থেকে গাঁজা রেখে আমাদেরকে ফাঁসানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় নেতাদেরকে ফোন দিয়ে আনেন এসআই রেহান উদ্দিন। পরে নেতাদের মাধ্যমে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পাই।
জানতে চাইলে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি বলেন, এসআই রেহান আমাকে খবর দিয়ে এনে আটককৃতদের কাছে গাঁজা পাওয়া গেছে বলে জানান এবং এদেরকে ছাড়িয়ে রাখার জন্য বলেন। সেক্ষেত্রে দুই লক্ষ টাকা ম্যানেজ করে দিতে বলেন।
কালমা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ঈদের দিন রাতে কালমা ইউনিয়নের বিট পুলিশ এসআই রেহান আমাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ঘুম চোখে থাকার কারণে রাত চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসি। এসময় শাহাজান মুন্সিসহ থানার পুলিশ ও আটককৃতদের দেখতে পাই। পরে জানতে পারি আটককৃতদের ছাড়াতে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন ওই এসআই। পরে আটককৃতদের সাথে আলাপ করে অবশেষে তাদেরকে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে রাখতে সক্ষম হই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে ব্যস্ততার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটেনি।
এদিকে লালমোহন থানা এলাকার বিভিন্ন মামলার ধারা কমানোর নামে বিবাদীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একাধিক তথ্যও রয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও পুলিশের আগের চেহারায় হতভম্ব লালমোহনের মানুষ। তাই এসব অনিয়ম রোধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতনমহল।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নিলো পুলিশ

Update Time : ০৯:২৭:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ জুন ২০২৫

রাত্রিকালীন অভিযানের নামে পথচারী ও অটো চালককে আটক করে গাঁজা দিয়ে ফাঁসিয়ে একলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ভোলার লালমোহন থানার এক এসআইয়ের বিরুদ্ধে।
গত ৭জুন পবিত্র ঈদ উল আযহার দিবাগত রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড চরলক্ষী গ্রামের ফলপান বাড়ির দরজায় ছালাউদ্দিনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদ উল আযহার দিন (শনিবার) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রাত্রিকালীন অভিযানের অংশ হিসেবে কালমা ইউনিয়নের চরলক্ষী গ্রামের ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়ক এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন।
এসময় রাস্তায় মো. হারুন নামের এক অটো চালককে দাঁড় করিয়ে চাবি রেখে দেন এসআই রেহান। তখন ওই স্থানে কিছু লোকজন থাকলেও পুলিশের ভয়ে দৌড় দিলেও তাদের মধ্য থেকে দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে অটো চালকসহ ওই দুজনকে নিয়ে পুলিশ পরিচয় দিয়ে স্থানীয় ছালাউদ্দিনের চায়ের বন্ধ দোকান খুলতে বাধ্য করেন ওই এসআই।
এসময় দোকান বন্ধ করে ভেতরে ঘুম যাচ্ছিলেন ছালাউদ্দিন ও তার বড় ভাই ফারুক। পুলিশ পরিচয়ে দোকানে ঢুকেই ছালাউদ্দিনকে চড়-থাপ্পড় শুরু করলে ভয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায় তার ভাই ফারুক।
পরে ছালাউদ্দিনের দোকান তল্লাশির নামে তার ক্যাশ ও দোকানের চাবি নিয়ে যান এবং মালামাল তছনছ করেন এসআই রেহান। একপর্যায়ে টেবিলের ওপর গাঁজার পুঁটলি রেখে এগুলো দোকানি ও আটককৃতদের কাছে পাওয়া গেছে বলে দাবি করে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি ও ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিনকে খবর দেন এবং তারা আসলে আটককৃতদের ছাড়াতে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেন এসআই রেহান।
দোকানি ছালাউদ্দিন বলেন, ঈদের দিবাগত রাতে আমার বড় ভাইসহ দোকানে ঘুমিয়ে ছিলাম। এসময় পুলিশ পরিচয় দিয়ে আমার দোকান খুলতে বাধ্য করেন লালমোহন থানার এসআই রেহান। পরে দোকান খোলার সাথে সাথেই আমার ভাইকেসহ আমাকে মারধর শুরু করেন তিনি। এসময় ভয়ে আমার ভাই পালিয়ে গেলেও আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরিয়ে দোকানে বসিয়ে রাখে।
পরে পুলিশ নিজেদের কাছ থেকে গাঁজার পুঁটলি দোকানের টেবিলে রেখে আমিসহ পূর্বের আটককৃতদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বলে দাবি করেন এবং কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সিকে খবর দেন। পরে তিনি এসে পুলিশের সাথে দেন দরবার করে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে আমাদেরকে ছাড়িয়ে রাখেন।
অটো চালক মো. হারুন বলেন, আমি অটো নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে দাঁড়াতে সিগন্যাল দেয় পুলিশ। আমি দাঁড়ানোর সাথে সাথে আমার অটোর চাবি নিয়ে আমাকে হ্যান্ডক্যাপ পরায় তারা। পরে ছালাউদ্দিনের দোকানে নিয়ে নিজেদের কাছ থেকে গাঁজা রেখে আমাদেরকে ফাঁসানো হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় নেতাদেরকে ফোন দিয়ে আনেন এসআই রেহান উদ্দিন। পরে নেতাদের মাধ্যমে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়া পাই।
জানতে চাইলে কালমা ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সাবেক সভাপতি শাহাজান মুন্সি বলেন, এসআই রেহান আমাকে খবর দিয়ে এনে আটককৃতদের কাছে গাঁজা পাওয়া গেছে বলে জানান এবং এদেরকে ছাড়িয়ে রাখার জন্য বলেন। সেক্ষেত্রে দুই লক্ষ টাকা ম্যানেজ করে দিতে বলেন।
কালমা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন জানান, ঈদের দিন রাতে কালমা ইউনিয়নের বিট পুলিশ এসআই রেহান আমাকে একাধিকবার ফোন দিলেও ঘুম চোখে থাকার কারণে রাত চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসি। এসময় শাহাজান মুন্সিসহ থানার পুলিশ ও আটককৃতদের দেখতে পাই। পরে জানতে পারি আটককৃতদের ছাড়াতে দুই লক্ষ টাকা দাবি করেছিলেন ওই এসআই। পরে আটককৃতদের সাথে আলাপ করে অবশেষে তাদেরকে একলক্ষ টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে রাখতে সক্ষম হই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমোহন থানার এসআই রেহান উদ্দিন এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি জানিয়ে ব্যস্ততার সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের কোনো ঘটেনি।
এদিকে লালমোহন থানা এলাকার বিভিন্ন মামলার ধারা কমানোর নামে বিবাদীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার একাধিক তথ্যও রয়েছে। ৫ আগস্টের পরেও পুলিশের আগের চেহারায় হতভম্ব লালমোহনের মানুষ। তাই এসব অনিয়ম রোধে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন সচেতনমহল।