ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

লালমোহনে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,পরিবারের দাবি হত্যা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মো. ফাহিম (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন চরকচুয়াখালী থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুবক ফাহিম ওই এলাকার মো. রুহুল আমিন হেজুর ছেলে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে; ফাহিমকে মারধর করে তার ঘরে নিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
অভিযোগ করে ওই যুবকের বাবা মো. রুহুল আমিন হেজু জানান, বিয়ে করার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতো ফাহিম। ঈদের দিন (শনিবার) সকালে আমি তাদের দাওয়াত দেই। এরপর তারা এসে দুপুরের খাবার খায়। তবে বিকেলের দিকে কাউকে কিছু না বলেই ফাহিমের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর ফাহিম এলাকার অন্যদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তার স্ত্রী তাকে লোক পাঠিয়ে ডাকলে সে তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করে। এ সময় তার পাশে থাকা ভায়রা এসব শুনতে পেয়ে বাড়িতে গিয়ে শ্বশুরসহ অন্যান্য আত্মীয়দের জানান।
তিনি আরও জানান, এরপর রাতে আমার ছেলে ফাহিমকে ফোনে কল দিয়ে ডেকে বাড়িতে নেন তার শ্বশুর আব্দুল খালেক। সেখানে নিয়ে তাকে ওই গালিগালাজের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। একপর্যায়ে ফাহিমের শ্বশুর, শালা ও ভায়রাসহ কয়েকজন মিলে বেধড়ক মারধর করেন। তাই আমাদের ধারণা; তাদের মারধরের একপর্যায়ে ফাহিম মারা গেলে তার ঘরে নিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ভোরে আমার স্ত্রী রহিমা বিবি তাকে খুঁজতে গেলে ফাহিমের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে। এরপর জানালা দিয়ে উঁকি দিলে ভেতরের গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় ফাহিমকে ঝুলন্ত দেখতে পায় সে। পরে আমার স্ত্রী ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন গিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন।
এ ব্যাপারে যুবক ফাহিমের শ্বশুর আব্দুল খালেক বলেন, আমার মেয়ে কয়েকদিন ধরে আমাদের বাড়িতে বেড়াচ্ছে। যার জন্য জামাই ফাহিম আমাদের বাড়িতে আসেন। এরপর তিনি রাতেই আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে সে রাতের বেলায় যেতে রাজি হয়নি। যার জন্য জামাই রেগে তার ছোট্ট ছেলেকে লাথি মারে। এ জন্য আমার আরেক জামাই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে একটি ধাক্কা দেয়। ঘটনা কেবল এতটুকুই, এর বেশি কিছু না। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। হয়ত অভিমানে জামাই ফাহিম আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এরপর তারা ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনেন। ময়নাতদন্তের জন্য ওই যুবকের মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

লালমোহনে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার,পরিবারের দাবি হত্যা

Update Time : ০৮:২২:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ জুন ২০২৫

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মো. ফাহিম (২৫) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বিচ্ছিন্ন চরকচুয়াখালী থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। যুবক ফাহিম ওই এলাকার মো. রুহুল আমিন হেজুর ছেলে। তার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে; ফাহিমকে মারধর করে তার ঘরে নিয়ে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন শ্বশুর বাড়ির লোকজন।
অভিযোগ করে ওই যুবকের বাবা মো. রুহুল আমিন হেজু জানান, বিয়ে করার পর স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে আলাদা থাকতো ফাহিম। ঈদের দিন (শনিবার) সকালে আমি তাদের দাওয়াত দেই। এরপর তারা এসে দুপুরের খাবার খায়। তবে বিকেলের দিকে কাউকে কিছু না বলেই ফাহিমের স্ত্রী তার বাবার বাড়িতে চলে যান। এরপর ফাহিম এলাকার অন্যদের সঙ্গে ক্যারাম খেলছিলেন। সন্ধ্যার দিকে তার স্ত্রী তাকে লোক পাঠিয়ে ডাকলে সে তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ করে। এ সময় তার পাশে থাকা ভায়রা এসব শুনতে পেয়ে বাড়িতে গিয়ে শ্বশুরসহ অন্যান্য আত্মীয়দের জানান।
তিনি আরও জানান, এরপর রাতে আমার ছেলে ফাহিমকে ফোনে কল দিয়ে ডেকে বাড়িতে নেন তার শ্বশুর আব্দুল খালেক। সেখানে নিয়ে তাকে ওই গালিগালাজের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করেন তারা। একপর্যায়ে ফাহিমের শ্বশুর, শালা ও ভায়রাসহ কয়েকজন মিলে বেধড়ক মারধর করেন। তাই আমাদের ধারণা; তাদের মারধরের একপর্যায়ে ফাহিম মারা গেলে তার ঘরে নিয়ে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ভোরে আমার স্ত্রী রহিমা বিবি তাকে খুঁজতে গেলে ফাহিমের ঘরের দরজা বন্ধ দেখে। এরপর জানালা দিয়ে উঁকি দিলে ভেতরের গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় ফাহিমকে ঝুলন্ত দেখতে পায় সে। পরে আমার স্ত্রী ডাক চিৎকার দিলে আশেপাশের লোকজন গিয়ে থানা পুলিশকে খবর দেন।
এ ব্যাপারে যুবক ফাহিমের শ্বশুর আব্দুল খালেক বলেন, আমার মেয়ে কয়েকদিন ধরে আমাদের বাড়িতে বেড়াচ্ছে। যার জন্য জামাই ফাহিম আমাদের বাড়িতে আসেন। এরপর তিনি রাতেই আমার মেয়েকে নিয়ে যেতে চাইলে সে রাতের বেলায় যেতে রাজি হয়নি। যার জন্য জামাই রেগে তার ছোট্ট ছেলেকে লাথি মারে। এ জন্য আমার আরেক জামাই ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে একটি ধাক্কা দেয়। ঘটনা কেবল এতটুকুই, এর বেশি কিছু না। তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। হয়ত অভিমানে জামাই ফাহিম আত্মহত্যা করেছেন।
এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাসুদ হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। এরপর তারা ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনেন। ময়নাতদন্তের জন্য ওই যুবকের মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।