ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল

মো. হেলাল উদ্দিন। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে হঠাৎ তিনি স্কুলে উপস্থিত হন। তিনি স্কুলে আসছেন এই খবর পেয়ে তার কাছ থেকে টাকা পাবে এমন লোকজন স্কুলে গিয়ে হাজির হন। স্কুলের বাহিরে লোকজন জড়ো হচ্ছে এই খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দ্রুত স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্কুল গেটের সামনে লোকজন তাকে আটকিয়ে তাদের পাওনা ফেরত দিতে বলেন।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সাথে পাওনাদারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে একজন এগিয়ে আসেন। তিনি উত্তেজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং হেলাল উদ্দিনকে একটি অটো রিকশায় উঠিয়ে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে দেন।
জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরি শাওন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই। এই সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। প্রধান শিক্ষক হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি, বাজারের জায়গা, পুকুর বিক্রি করা শুরু করেন। এই বিক্রি বাবদ প্রায় ৩৪৮ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিছু লোককে জমি, বাজারের ঘর বুঝিয়ে দিলেও অনেকের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। চাচাতো ভাই এমপি হওয়ার সুবাদে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না এবং তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলে অনেক শিক্ষককে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে সারা দেশের ন্যায় লালমোহন উপজেলার এই স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি জনরোশের ভয়ে স্কুলে আসেসনি এবং লালমোহনেও তাকে দেখা যায়নি। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন অনিয়ম ও স্কুলে না আসায় তাকে অপসারণ করতে ছাত্র জনতা একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত এবং বুজিনা বলে কেটে দেন। এরপর একাধিক বার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

৯ মাস পর এসে জনরোষে থেকে বাঁচতে দ্রুত স্কুল ত্যাগ করলেন প্রধান শিক্ষক হেলাল

Update Time : ০৭:৪৫:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ মে ২০২৫

মো. হেলাল উদ্দিন। লালমোহন সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। গত ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক অবস্থায় ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস পর বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকালে হঠাৎ তিনি স্কুলে উপস্থিত হন। তিনি স্কুলে আসছেন এই খবর পেয়ে তার কাছ থেকে টাকা পাবে এমন লোকজন স্কুলে গিয়ে হাজির হন। স্কুলের বাহিরে লোকজন জড়ো হচ্ছে এই খবর পেয়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন দ্রুত স্কুল থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্কুল গেটের সামনে লোকজন তাকে আটকিয়ে তাদের পাওনা ফেরত দিতে বলেন।
এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের সাথে পাওনাদারদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় প্রধান শিক্ষকের পক্ষ নিয়ে একজন এগিয়ে আসেন। তিনি উত্তেজিত জনতাকে থামানোর চেষ্টা করে এবং হেলাল উদ্দিনকে একটি অটো রিকশায় উঠিয়ে জনরোষ থেকে বাঁচিয়ে দেন।
জানা যায়, ভোলা-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরি শাওন প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের চাচাতো ভাই। এই সুবাদে ক্ষমতার অপব্যবহার তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হন। প্রধান শিক্ষক হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি লালমোহন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জমি, বাজারের জায়গা, পুকুর বিক্রি করা শুরু করেন। এই বিক্রি বাবদ প্রায় ৩৪৮ জনের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নেন। কিছু লোককে জমি, বাজারের ঘর বুঝিয়ে দিলেও অনেকের টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন। চাচাতো ভাই এমপি হওয়ার সুবাদে তাকে কেউ কিছু বলতে সাহস পেত না এবং তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে স্কুলে অনেক শিক্ষককে অবৈধ ভাবে নিয়োগ প্রদান করেন। পরে সারা দেশের ন্যায় লালমোহন উপজেলার এই স্কুলটি সরকারি করণ করা হয়। গত ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তিনি জনরোশের ভয়ে স্কুলে আসেসনি এবং লালমোহনেও তাকে দেখা যায়নি। প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন অনিয়ম ও স্কুলে না আসায় তাকে অপসারণ করতে ছাত্র জনতা একাধিকবার মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন।
এ ব্যাপারে জানতে প্রধান শিক্ষক হেলাল উদ্দিনের মোবাইলে কল করে সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি ব্যস্ত এবং বুজিনা বলে কেটে দেন। এরপর একাধিক বার কল করলে তিনি রিসিভ করেননি।