ঢাকা ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২
দখলদারদের সুবিধা দিতে

লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধের অভিযোগ

ভোলার লালমোহনে খাল খননে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেভাবে খাল কাটার কথা সেভাবে খাল না কেটে কোনো রকমে দায়সারা ভাবে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী। ও দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোথাও নিয়ম অনুযায়ী খাল কাটা হলেও কোথাও প্রভাবশালীদের কারণে ঠিকমতো খাল কাটছেন না ঠিকাদার। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটারে। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খালটি কাটা শুরু করে এখন বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারেরা খাল দখল করে ঘর নির্মাণ করার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। একটি চক্র এই সমস্ত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা উত্তোলন করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাল কাটা পাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করেছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। এখানে খাল কাটা শুরু হলে দখলকারীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু করে। ভেকু দিয়ে কোনোরকম নীচ দিয়ে কাটা শুরু করে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই এই খাল কাটা বন্ধ করে দিয়ে ভেকু মেশিন উঠিয়ে নিয়ে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দখলকারীরা তাদের ঘরবাড়ী যেটুকু ভেঙ্গেছেন এখন আর ভাঙছেন না। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহল খাল পারের দখলকৃত ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির ও দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আগে যে যেটুকু ভেঙেছেন এখন আর নতুন করে দখলকৃত খালের উপর ঘরবাড়ি ভাঙছেন না। অনেকে অর্ধেক ভেঙে এখন অজ্ঞাত কারণে ভাঙা বন্দ রেখেছন। কেহ কেহ ভাঙা জায়গায় রাতের আধারে পূন:রায় মেরামত করে নিচ্ছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার শুরু ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত। খাল অনুযায়ী মুখে কোথাও ৬০ ফিট, কোথাও ৩৫ ফিট কাটার কথা। তবে লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত মুখে ৬০ ফিট কাটার কথা। খাল খননের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল। ইসলাম। মোট বরাদ্দ ১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন শুরু জানুয়ারি ২০২৪ ইং শেষ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল কাটা শুরু করে বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাল খনন করছি। হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলে খাল পারের বা সিন্ধা রা তাদের রেকর্ডিয় জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে খনন বন্ধ রাখতে। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবেন। তাই চএখানের কাজ বন্ধ রেখে অন্য জায়গায় কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে তিনি জানান মোট কাজের ৭০% সমাপ্ত হয়েছে।
পৌরসভার কাজ বন্ধের ব্যাপারে দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, মাটি নরমের কারণে উক্ত জায়গার খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য জায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ এ ব্যাপারে বলেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়াল কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলি নাই। খাল কাটার বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খান খনন করা উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান জানান, পৌরসভার উক্ত এলাকায় রাফ কেটে গেছে এরপর ফাইনাল কাটা হবে। অবৈধ কোনো স্থাপনা থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

দখলদারদের সুবিধা দিতে

লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধের অভিযোগ

Update Time : ০৫:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ মার্চ ২০২৫

ভোলার লালমোহনে খাল খননে নয়ছয়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যেভাবে খাল কাটার কথা সেভাবে খাল না কেটে কোনো রকমে দায়সারা ভাবে কাজ করছেন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রভাবশালী। ও দখলদারদের সুবিধা দিতে লালমোহন পৌরসভার খাল খনন বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কোথাও নিয়ম অনুযায়ী খাল কাটা হলেও কোথাও প্রভাবশালীদের কারণে ঠিকমতো খাল কাটছেন না ঠিকাদার। সবচেয়ে বেশি অনিয়ম হচ্ছে লালমোহন পৌরসভার প্রায় ১.৫ কিলোমিটারে। লালমোহন হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খালটি কাটা শুরু করে এখন বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে প্রভাবশালী অবৈধ দখলদারেরা খাল দখল করে ঘর নির্মাণ করার কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। একটি চক্র এই সমস্ত দখলকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের চাঁদা উত্তোলন করে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় ব্যস্ত রয়েছেন। এতে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাল কাটা পাড়ের বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালের আগে আমাদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করে খাল খনন করেছে। কিন্তু পৌরসভার ভিতরে হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত প্রভাবশালীদের দখলে থাকা খাল নিয়ম অনুযায়ী খনন করা হচ্ছে না। এখানে খাল কাটা শুরু হলে দখলকারীরা নিজেদের ঘরবাড়ি ভাঙা শুরু করে। ভেকু দিয়ে কোনোরকম নীচ দিয়ে কাটা শুরু করে হঠাৎ কোন কারণ ছাড়াই এই খাল কাটা বন্ধ করে দিয়ে ভেকু মেশিন উঠিয়ে নিয়ে যান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। দখলকারীরা তাদের ঘরবাড়ী যেটুকু ভেঙ্গেছেন এখন আর ভাঙছেন না। গোপন সূত্রে জানা যায়, প্রভাবশালী একটি মহল খাল পারের দখলকৃত ঘরবাড়ি না ভাঙার ব্যাপারে তদবির ও দখলদারদের সাথে অবৈধ লেনদেন করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় আগে যে যেটুকু ভেঙেছেন এখন আর নতুন করে দখলকৃত খালের উপর ঘরবাড়ি ভাঙছেন না। অনেকে অর্ধেক ভেঙে এখন অজ্ঞাত কারণে ভাঙা বন্দ রেখেছন। কেহ কেহ ভাঙা জায়গায় রাতের আধারে পূন:রায় মেরামত করে নিচ্ছেন।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগ (বাপাউবো) সূত্রে জানা যায়, লালমোহনে মোট ১৯ কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। যার শুরু ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রাম থেকে লালমোহন লঞ্চঘাট পর্যন্ত। খাল অনুযায়ী মুখে কোথাও ৬০ ফিট, কোথাও ৩৫ ফিট কাটার কথা। তবে লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে লঞ্চঘাট পর্যন্ত মুখে ৬০ ফিট কাটার কথা। খাল খননের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স তাজুল। ইসলাম। মোট বরাদ্দ ১৮ কোটি ৯৯ লক্ষ ৭৫ হাজার ৪৬০ টাকা। খনন শুরু জানুয়ারি ২০২৪ ইং শেষ এপ্রিল ২০২৫ ইং।
লালমোহন পৌরসভার হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল কাটা শুরু করে বন্ধ রাখার বিষয়ে কর্তব্যরত এসও প্রকৌশলী মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা নিয়ম অনুযায়ী খাল খনন করছি। হাসপাতাল থেকে খাদ্যগুদাম পর্যন্ত খাল খনন শুরু হলে খাল পারের বা সিন্ধা রা তাদের রেকর্ডিয় জমি দাবি করে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমাদেরকে সাময়িক সময়ের জন্য এখানে খনন বন্ধ রাখতে। তিনি কাগজপত্র দেখে সিদ্ধান্ত দিবেন। তাই চএখানের কাজ বন্ধ রেখে অন্য জায়গায় কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ব্যাপারে তিনি জানান মোট কাজের ৭০% সমাপ্ত হয়েছে।
পৌরসভার কাজ বন্ধের ব্যাপারে দায়িত্বরত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার কার্তিক বাবু বলেন, মাটি নরমের কারণে উক্ত জায়গার খাল খনন বন্ধ রয়েছে। আমরা অন্য জায়গায় কাজ করছি। এখানকার মাটি শুকালে আবার কাটা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ এ ব্যাপারে বলেন, খাল খনন বন্ধের বিষয়ে আমাকে অফিসিয়াল কোন কিছু জানানো হয়নি। আমি খাল খনন বন্ধের বিষয়ে কাউকে কিছু বলি নাই। খাল কাটার বিষয়ে কিছু অভিযোগ পেয়েছি সেগুলো বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডে ফরওয়ার্ড করে দিয়েছি। দ্রুত বর্ষার আগেই খান খনন করা উচিত বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা।
লালমোহন পানি উন্নয়ন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মেহেদি হাসান জানান, পৌরসভার উক্ত এলাকায় রাফ কেটে গেছে এরপর ফাইনাল কাটা হবে। অবৈধ কোনো স্থাপনা থাকলে উচ্ছেদ করা হবে।