ঢাকা ০৫:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জোয়ারের পানিতে আবাসনের বাসিন্ধারা চরম দুর্দশাগ্রস্তভাবে দিন কাটাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢল প্রবেশ করে আবাসনে আরো ক্ষতিগ্রস্তের আশংকা করছেন বাসিন্ধারা।
লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসন সংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম  উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনের ১৪০ পরিবারের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর ঢেউ ও জোয়ারের পানিতে নিয়মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আবাসনের ১৪০ পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুইটি স্থানে বেড়িবাধের কোন অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে  স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ  নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙ্গে নদীর সাথে মিশে যায়। কার্যত এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর বেড়িবাধ দিয়ে টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত থাকে।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্ধা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোন রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ায় হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে আবাসন এলাকায় পানি টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোন রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক

Update Time : ০৯:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

ভোলার লালমোহনে তেঁতুলিয়া নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে ১৪০ পরিবারের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। জোয়ারের পানিতে আবাসনের বাসিন্ধারা চরম দুর্দশাগ্রস্তভাবে দিন কাটাচ্ছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙা বাঁধ দিয়ে পানি ঢল প্রবেশ করে আবাসনে আরো ক্ষতিগ্রস্তের আশংকা করছেন বাসিন্ধারা।
লালমোহন উপজেলার ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ে করতোয়া আবাসন সংলগ্ন প্রায় ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের চরম  উদাসিনতা ও গাফলতির কারণে ওই আবাসনের ১৪০ পরিবারের মাঝে চরম দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। তেঁতুলিয়া নদীর ঢেউ ও জোয়ারের পানিতে নিয়মিত বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আবাসনের ১৪০ পরিবার এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা ও অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড গাইমারা এলাকার অন্তত ২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের বেশির ভাগই ইতোমধ্যে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দুইটি স্থানে বেড়িবাধের কোন অস্তিত্ব নেই। জোয়ারের সময় পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে আবাসনের বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই এলাকায় নদীর পাড়ে  স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ  নির্মাণে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি পানি উন্নয়ন বোর্ড। প্রতিবছর বর্ষা ও দুর্যোগ মৌসুমে কোটি কোটি টাকা খরচ করে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মান ও জিও ব্যাগ ব্যবহার করা হয় এবং বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই তা ভেঙ্গে নদীর সাথে মিশে যায়। কার্যত এখানে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতিবছর বেড়িবাধ দিয়ে টাকা কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত থাকে।
করতোয়া আবাসনের বাসিন্ধা মনির, সুরমা ও আছমা জানান, আবাসনে মধ্যে আমরা অনেক কষ্টে বসবাস করছি। বৃষ্টি হলে আবাসনের ঘরের ভাঙা চালা দিয়ে পানি পড়ে। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে জোয়ারের পানি। শুকনো মৌসুমে কোন রকমে থাকলেও বর্ষা মৌমুমে চরম বিপদে থাকতে হচ্ছে আমাদের। জোয়ায় হলে ভাঙা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে আবাসন এলাকায় পানি টইটুম্বুর হয়ে পড়ে। তখন সন্তানদের দিয়ে কোন রকমে আবাসনের ঘরে থাকি।
ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের যুবদল নেতা মো. রাসেল সিপাহী বলেন, বেড়িবাঁধটি মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনের সাথে যোগাযোগ করেছি তারা বলেছে শীঘ্রই সরেজমিন পরিদর্শন করতে আসবে।

লালমোহন পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জানা গেছে, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আহসান আহমেদ খানসহ পুরো অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ লালমোহনে অফিস না করে চরফ্যাশন নির্বাহী প্রকৌশলী-২ অফিসে বসেন।

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানান, আমরা লালমোহনের তেতুলিয়া নদীর পাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধ পরিদর্শন করে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা নেব।