
বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট (পিআইবি)’র মহাপরিচালকের ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচারে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। প্রভাব খাটিয়ে বাসসের এমডি সহ প্রায় ৪শ’ সাংবাদিকের নামে ভুয়া বিল ভাউচার করেছেন তিনি। এসব অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে জরুরি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান বঞ্চিত সাংবাদিকরা।
ফারুক ওয়াসিফ গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের কিছুদিন পর থেকেই তিনি বিধিবহির্ভূতভাবে পরিচালক, উপ-পরিচালক, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, সিনিয়র প্রশিক্ষকসহ বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু, বান্ধবী ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়োগ দেন। এসব নিয়োগের বিষয়ে পিআইবির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপত্তি জানালে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রায়ই দাবি করতেন যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব তার ঘনিষ্ঠজন এবং পিআইবির বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত— বোর্ড বা মন্ত্রণালয়ের কিছু করার ক্ষমতা নেই। তার কাজে বাধা দিলে চাকুরি হারানো হুমকিও দেওয়া হতো।
নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ :
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, যোগদানের পর থেকে ফারুক ওয়াসিফ বিধিবহির্ভূতভাবে মোট ৩৯ জনকে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এদের অধিকাংশই তার ঘনিষ্ঠজন এবং মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে চাকরি স্থায়ী করার শর্তে নিয়োগ দেওয়া হয়। দুর্নীতি ও অবৈধ নিয়োগের প্রতিবাদ করায় হিসাবরক্ষক (চলতি দায়িত্ব) মো. আলী হোসেনকে বিনা অপরাধে অবসরে পাঠানো হয়। একইভাবে পরিচালক (প্রশিক্ষণ) পারভীন সুলতানা রাব্বীকে মন্ত্রণালয়ে ভুল তথ্য দিয়ে অন্যত্র বদলি করা হয়। অন্যদেরও বিভিন্ন শাখায় বদলি বা কর্মহীন অবস্থায় রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে পিআইবিতে চাকরি হারানোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত বোর্ড সভায় ৩৯ জন অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্থায়ী করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হলেও বোর্ড সদস্যরা বিষয়টি বিধিমোতাবেক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পুনরায় উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। এতে মহাপরিচালক ক্ষুব্ধ হয়ে সম্প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করেন এবং দ্রুত নির্বাচন কমিটি গঠন করে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা চালান।
আর্থিক অনিয়মের
অভিযোগে রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে সন্ধ্যার পর গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এছাড়া এক অবসরপ্রাপ্ত হিসাব কর্মকর্তাকে বিধিবহির্ভূতভাবে উচ্চ বেতনে উপ-পরিচালক (প্রশাসন) পদে বসিয়ে আয়ন-বায়ন কর্মকর্তার দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তার মাধ্যমে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি করে অবৈধ লেনদেন ও অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, আইবাসের মাধ্যমে ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বিভিন্ন খাতে অব্যয়িত ১ কোটি ১২ লাখ টাকা অন্য ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং এক খাতের বরাদ্দ অন্য খাতে ব্যয় করা হয়েছে।
পিআইবিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের বিরুদ্ধে ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরি, নিয়মবহির্ভূত নিয়োগ, টেন্ডারবিহীন সংস্কার কাজ এবং কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অফিসের নথি পত্র পয্যালোচনা করলে যার প্রমাণ মিলবে।
নথি অনুযায়ী, বিভিন্ন কর্মসূচি, বরাদ্দ স্থানান্তর, অবকাঠামো ব্যয় ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোট ৫, কোটি ২৩ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৫ টাকা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নথিতে উত্থাপিত অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অভিযোগগুলো যাচাই ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন জরুরি বলে সংশ্লিষ্ট মহলের মত।
এছাড়া পিআইবিতে অবসরপ্রাপ্তদের হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
পিআইবি থেকে অবসর গ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদের পাওনা সংক্রান্ত বিষয় ঝুলিয়ে রেখে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। একাধিক সূত্রে জানা যায় অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি এবং পিআইবির অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ফরিদ উদ্দিন এর সাথে মহাপরিচালক অমানবিক আচরণ করেছেন ও তার পিএফ ফান্ডের চেক আটকিয়ে রেখেছেন। বর্তমানে তাকে হুমকি-ধুমকি দিচ্ছেন এবং ভয় ভিতি দেখাচ্ছেন বলে জানা যায়।
বিশেষ প্রতিনিধি 









