ঢাকা ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
News Title :
লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন লালমোহনে একতা জেনারেল হসপিটাল এন্ড ট্রমা সেন্টারের উদ্বোধন লালমোহনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন স্কুল থেকে বাড়ি যাওয়ার পথে টমটমের চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু লালমেহান পৌরসভার ময়লা ফেলা হচ্ছে হেলিপ্যাডের উপর ! দুর্ভোগ ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী লালমোহনে বিএনপির উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত লালমোহনে হার্টের রোগে আক্রান্ত শিশু শাকিবকে বাঁচাতে বাবা মায়ের আকুতি কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক কোস্ট গার্ডের অভিযানে লালমোহনে ৪৮ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি আটক
সংবাদ শিরোনাম :
Welcome To Our Website... সকল উপজেলা ও জেলায়, প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে, বিজ্ঞাপনের সু-ব্যবস্থা রয়েছে, বিজ্ঞাপন দিয়ে আমাদের সাথেই থাকুন, যোগাযোগ- ০১৭৩০৯৪৮৯০২
মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা.

লালমোহনে কর্মহীন জেলেরা চান যথাসময়ে চাল, বন্ধ রাখার দাবি কিস্তি আদায়

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে চলছে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। শুক্রবার (৩অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ মে অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই এই উপজেলার জেলেরা তাদের মাছ ধরা নৌকা, ট্রলার ও জালসহ প্রয়োজনীয় মাছ ধরা সরঞ্জামসহ তীরে ফিরে এসেছেন। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার আগেও ইলিশের তেমন দেখা পাননি জেলেরা। এতে করে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে জেলেদের মধ্যে।
উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জেলে মো. ইব্রাহিম মাঝি ও ইদ্রিছ মাঝি বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশের চরম খরা ছিল। নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে অনেক সময় তীরে ফিরে মাছ বিক্রি করে দেখা যেতো তেলের টাকাও উঠেনি। এতে করে আমাদের এলাকার জেলেরা চরম কষ্টে দিন পার করেছেন। এখন আবার মা ইলিশ রক্ষার জন্য টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তবে আমাদের দাবি; যথা সময়ে যেন বরাদ্দের চালগুলো বিতরণ করা হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যেন এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। যারা উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ২৭ ঘাট দিয়ে নদী-সাগরে মাছ শিকারে নামেন। সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ বাস্তবায়ন করতে এসব জেলেদের মাছ ধরা থেকে থাকতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ রয়েছে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার আগে আমরা জেলেদের নিয়ে কয়েকটি সচেতনতা সভা করেছি। আশা করছি জেলেরা ২২দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। তারপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে গেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দ রয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য এনজিওগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। তবে এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অভিযানে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

লালমোহন রিপোর্টার্স ইউনিটির কমিটি গঠন

মাছ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা.

লালমোহনে কর্মহীন জেলেরা চান যথাসময়ে চাল, বন্ধ রাখার দাবি কিস্তি আদায়

Update Time : ০৮:২২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

ভোলার লালমোহন উপজেলায় মা ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষ্যে চলছে মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা। এ সময় ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতসহ ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। শুক্রবার (৩অক্টোবর) মধ্যরাত থেকে শুরু হওয়া এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ মে অক্টোবর পর্যন্ত। নিষেধাজ্ঞার এই ২২ দিনে উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছ শিকার করা জেলেরা পুরোপুরি কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। ইতোমধ্যেই এই উপজেলার জেলেরা তাদের মাছ ধরা নৌকা, ট্রলার ও জালসহ প্রয়োজনীয় মাছ ধরা সরঞ্জামসহ তীরে ফিরে এসেছেন। যদিও এই নিষেধাজ্ঞার আগেও ইলিশের তেমন দেখা পাননি জেলেরা। এতে করে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে জেলেদের মধ্যে।
উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের জেলে মো. ইব্রাহিম মাঝি ও ইদ্রিছ মাঝি বলেন, এ বছর নদীতে ইলিশের চরম খরা ছিল। নদীতে মাছ শিকারে গিয়ে অনেক সময় তীরে ফিরে মাছ বিক্রি করে দেখা যেতো তেলের টাকাও উঠেনি। এতে করে আমাদের এলাকার জেলেরা চরম কষ্টে দিন পার করেছেন। এখন আবার মা ইলিশ রক্ষার জন্য টানা ২২ দিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো। তবে আমাদের দাবি; যথা সময়ে যেন বরাদ্দের চালগুলো বিতরণ করা হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে যেন এনজিওগুলোর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা হয়।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, লালমোহনে নিবন্ধিত জেলে রয়েছেন ২৪ হাজার ৮০৬ জন। যারা উপজেলার ছোট-বড় অন্তত ২৭ ঘাট দিয়ে নদী-সাগরে মাছ শিকারে নামেন। সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৫ বাস্তবায়ন করতে এসব জেলেদের মাছ ধরা থেকে থাকতে বলা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল বরাদ্দ রয়েছে।
লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমদ আখন্দ বলেন, এই নিষেধাজ্ঞার আগে আমরা জেলেদের নিয়ে কয়েকটি সচেতনতা সভা করেছি। আশা করছি জেলেরা ২২দিনের এই নিষেধাজ্ঞায় সব ধরনের মাছ ধরা থেকে বিরত থাকবেন। তারপরও কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারে গেলে তার বিরুদ্ধে বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ জানান, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে জেলেদের জন্য চালের বরাদ্দ রয়েছে, যা দ্রুত সময়ের মধ্যে কার্ডধারী জেলেদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কিস্তি বন্ধ রাখার জন্য এনজিওগুলোর সঙ্গে কথা বলবো। তবে এবারের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। অভিযানে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যরা আমাদের সঙ্গে থাকবেন।